‘ভোট সুষ্ঠু হইলে দ্যাখবেন হানে’

শাহজাহান মোল্লা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকা, ছবি: বাংলানিউজ

বরিশাল থেকে: নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে অাসছে প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাপ ততই বাড়ছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে প্রচারণা। প্রার্থীদের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ থাকলেও থেমে নেই কেউ। সব দলের প্রার্থী নিজেদের আমলনামা নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

তবে কে হবেন নগরপিতা সেই সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৩০ জুলাই রাত অবধি। অাগে থেকে বলা মুশকিল হলেও গাজীপুর, খুলনার রেফারেন্স টানছেন সাধারণ ভোটাররা। তাদের মতে গাজীপুর ও খুলনা সিটির মতো নির্বাচন হলে কে বিজয়ী হবে তা আগেই বলে দেওয়া যাবে।

অনেকে হিসেবও কষে ফেলেছেন কি হবে ফলাফল। এ মুহূর্তে বরিশালে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করলেও প্রার্থীদের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যে সুষ্ঠু ভোট নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবীণ ভোটার আব্দুল হাকিম শিকদার বাংলানিউজকে জানান, ‘ভোট তো হইবে। হেইডা সুষ্ঠুমত হইলে পরে কতা অাছিল। তয় কি হইবে হেইডা বোঝতেছি। এহন ব্যাবাকে নৌকার। যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তয় দ্যাখবেন হানে।’

তিনি আরও বলেন, এখন তো ধানের শীষের পোস্টার হাতে নিলেও অপরাধ। নৌকার লোক এসে শাসায় যাচ্ছে ধানের শীষ কর ভোটের পর দেখব হানে। এরকম করলে কিভাবে আমরা ভোট দেব।

জয়নাল নামের আরকে ভোটার বলেন, আমার দোকানে সবপ্রার্থী অাসেন ভোট চান, কাগজ দিয়ে যান। ধানের শীষের কাগজ দেইখা আমাদের ধমকাইয়া গেছে। অামরা তো নৌকার পোস্টার হাতে নিয়ে ঘুরলেও বিশ্বাস করবে না।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রায় ৩৩ হাজার ভোটার রয়েছেন যারা বস্তিতে বসবাস করেন। এ ভোটারদের বেশির ভাগই বিএনপি, জাতীয় পার্টি সমর্থিত। তবে অনেক সময় টাকার বিনিময়ে এ ভোট কেনাবেচা হয় বলে কথা প্রচলিত রয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বরিশাল। তবে সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও শান্ত বরিশাল উপহার দেওয়ায় অনেকেই মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে এগিয়ে রাখছেন। অন্য দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে বৈতরণী পার হতে চান অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার।

তবে যাদের ভোটে নির্বাচিত হবেন নগরপিতা তাদের একজন ৫নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর বস্তির বাসিন্দা মিরাজ বলেন, এই শহরে যে উন্নয়ন হয়েছে সবই প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের আমলে। নতুন করে কেউ কিছু করেনি। আমাদের যে উন্নয়ন করবে তাকেই চাই। আমরা ভোট দিতে চাই, কিন্তু মারামারি চাই না। ভোটের আগেই লোকজন এসে আমার আইডি দেখিয়ে গেল, তাদের কাছে আমার কার্ড গেল কিভাবে? তাইলে কি আমার ভোট দিতে পারব না? তবে যাই হোক ভোটের দিন সেন্টার খোলার সঙ্গে সঙ্গে হাজির হব, যাতে বলতে না পারে ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।

পলাশপুর বস্তিতে প্রায় ১২ হাজার ৩৩৮ টি ভোট রয়েছে। সিটি করপোরেশনের আওতার মধ্যে হলেও পলাশপুরে এখনও উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। হিরনের পর এ এলাকায় কোনো মেয়রই নজর দেইনি বলে জানান পারভিন নামে এক নারী ভোটার।

তিনি বলেন, যে আমাদের রাস্তাঘাট করে দেবে সেই আসুক। সরোয়ার মেয়র তো দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল কি করেছেন? সেতো খোঁজই নেইনি। এবার সাদিক হলে হিরনের মতোই হবে। তবে আমার যেন শান্তিতে ভোট দিতে পারি সেটাই আবেদন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭১০ ঘণ্টা, জুলাই ২৩, ২০১৮
এসএম/ওএইচ/

বি. চৌধুরী ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন ২৩ আগস্ট
তারেকের নীলনকশায় ২১ আগস্ট হামলা: কাদের
বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায় শুরু, চলছে যানবাহন 
রাজধানীতে ঈদের প্রথম জামাত সকাল ৭টায়
ঈদে মুক্তি পাচ্ছে তিন সিনেমা
লক্ষ্মীপুরে ক্রেতার মারধরে দোকানির মৃত্যু
ক্রেতাশূন্য গাবতলীর হাটে গরুর দাম অর্ধেক!
শেষ মুহূর্তে ব্যস্ততা কামারশালায়
রাত পোহালেই ত্যাগ-মহিমার ঈদ
পা ধরি ‘রাজা বাবুকে’ কিনে আমাদের বাঁচান